জন্মের পর থেকেই হাত,পা পুরোপুরি অচল, তবু স্বপ্ন জয়ের আশায় মাধ্যমিকে শুভদ্বীপ

শান্তনু দাস,পুরুলিয়া

আর পাঁচজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের মতোই সাদামাটা হওয়ার কথা ছিল তাঁর জীবন। কিন্তু অদম্য জেদ ও সমাজে কিছু করে দেখানোর তাগিদই আজ তাকে আর পাঁচজন প্রতিবন্ধীর থেকে আলাদা করে দিয়েছে।

হাত,পা থাকা সত্তেও তা যেন আজ পুরোপুরি নেই বললেই চলে। জন্মের পর থেকেই সেগুলো পুরোপুরি অচলাবস্থায় পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিক চলাফেরা করা তার কাছে আজ আকাশছোঁয়ার মতোই।এখন জীবনের চলার পথে একমাত্র সঙ্গী তার ট্রাই সাইকেল। ৮০ % প্রতিবন্ধীকতা। আর সেই ৮০ % প্রতিবন্ধীকতাকে সঙ্গে নিয়েই স্বপ্ন জয়ের আশায় আজও পুরুলিয়া জেলার আদ্রা নিগম নগর নিগমানন্দ সেবাশ্রম হাইস্কুলের ছাত্র শুভদ্বীপ চক্রবর্তী।

হাতে খাতা-কলম পড়তেই প্রতিকূল পরিস্থিতি মাড়িয়ে বার বার একের পর এক মেধার প্রমাণ দিয়ে এসেছে শুভদ্বীপ। নিজের শরীরের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করা আদ্রা অরবিন্দ পল্লীর বাসিন্দা বাবা সুশেনকান্ত চক্রবর্তীর ছেলে শুভদ্বীপ চক্রবর্তী সমস্ত প্রতিকূল পরিবেশ,পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতাকে পরাজিত করে মেধা প্রমাণে নিজেকে আজ সাফল্যের শীর্ষে তুলে ধরার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

জীবন যুদ্ধে হার না মানা শুভদ্বীপের চোখে আজ হাজার হাজার স্বপ্নের মধ্যে তার এবারের এক বড়ো স্বপ জয়ের ধাপ ২০১৭ মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষায় তার সেন্টার পড়েছে ‘আদ্রা বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলে’। বাবা মায়ের সাহায্যে ট্রাই সাইকেল চালিয়ে এসেছে পরীক্ষাকেন্দ্রে। অপরদিকে বোর্ড কর্তৃপক্ষ তার সহযোগিতার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করেছে। তার জন্য অন্য এক ছাত্র রহিত গড়াইকে (রঘুনাথপুর হাই স্কুল) রাইটার্স হিসেবে নিয়োগ করেছে।পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে আজ প্রথম বাংলা পরীক্ষা দিয়েই সে প্রথমে তার বাবা-মার সঙ্গে দেখা করে। এবং তার পরীক্ষা বেশ ভালোই গেছে বলে হাসিমুখে জানায়।বাবা সুশেনকান্ত চক্রবর্তীর কথা, সকলের সহযোগিতায় ও তার নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তির জেরে আজ সে পরীক্ষা দিচ্ছে।আমি একজন গৃহশিক্ষক।কিন্তু তার এই পড়াশুনায় প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে আমিও মাঝেমধ্যে হার মেনে যাই। তার মধ্যে প্রতিনিয়ত লেখা পড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তি লক্ষ্য করেছি।সে নিজেকে কখনো প্রতিবন্ধী মনে করে না। প্রতিনিয়ত যেন তার মাথায় স্বপ জয় করার প্রবল চিন্তা ঘুরপাক খায়।

অপরদিকে প্রধান মধুসূদন দাস বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশমতো আমি প্রতিনিয়ত পূর্ন সহযোগিতার সঙ্গে এগিয়ে আসব শুভদ্বীপের পাশে। এছাড়াও আমার অঞ্চলের বিদ্যালয়ের ছাত্র সে,তাই আমি এসেছি যাতে পরীক্ষা চলাকালীন এই দিনগুলোতে তাকে কোনও রকম অসুবিধায় না পড়তে হয়।ভগবানের কাছে দোয়া করি তার সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকুক।