জাতীয় সড়কে আলু ফেলে রাস্তা অবরোধ কৃষক সভার 

এবি ওয়েব ডেক্স, জামালপুর

রাজ্যে ধান চাষিদের পরে এবার আলু চাষিদের নাভিশ্বাস অবস্থা। বর্ধমানের মেমারি , জামালপুর, আঝাউর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আলু চাষিরা আলুর দাম পাচ্ছেন না। পঞ্চাশ কেজি আলুর বস্তা বিক্রি হচ্ছে একশো চল্লিশ থেকে একশো আশি টাকায়। এই মরশুমে যেভাবে আলুর উৎপাদন বেড়েছে তাঁতে খরচের অর্ধেক দামও উঠবে না বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন চাষিরা। নূন্যতম সংগ্রহ মূল্যে সরকার এই আলু কিনলে তাদের কিছুটা সুরাহা হবে বলে মনে করছেন তারা। আগামী কাল থেকে খুলবে কোল্ড স্টোর গুলি। কিন্তু এর আগেই আলুর দাম বস্তা প্রতি ১৪০-১৮০ টাকার মধ্যে। প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের মসাগ্রাম সংলগ্ন দু নম্বর জাতীয় সড়কে রাস্তার মধ্যে বস্তা বস্তা আলু ফেলে বর্ধমান থেকে কলকাতা ও কলকাতা থেকে বর্ধমান যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয় কৃষক সভার নেতারা। সঙ্গে ছিলেন এলাকার আলু চাষিরা।অবরোধের ফলে জাতীয় সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

তাদের দাবি কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে ৫০ কেজি বস্তার আলু সাড়ে তিনশো টাকা দিয়ে কিনতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাজ্য সরকারকে বহন করতে হবে। একশো দিনের কাজ করে বকেয়া টাকা পায়নি কর্মীরা । অবিলম্বে সেই টাকা প্রদান করতে হবে। এছাড়া রেশন ব্যবস্থা নিয়ে মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। যদিও এই বিষয় গুলি নিয়ে সারা ভারত কৃষক সভার পক্ষ থেকে মেমারি -১ ব্লকের বিডিও কে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এদিন জামালপুরের বিধায়ক সমর হাজরা  জানান, ধান চাষের পরে ফের আলু চাষিরা জর্জরিত, আজ চাষির নাভিশ্বাস উঠছে। আলু চাষের জন্য ব্যাংক থেকে সমবায় থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছে। কিন্তু উৎপাদনের পরে বাজার মূল্য এত কমে গেছে সেই আলু চাষি বিক্রি করতে পারছে না। ফলে ক্ষতি হচ্ছে। ফলে ফের চাষিদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে। তাই আমাদের দাবি ধানের মতো আলুরও ন্যায্য মূল্য ঘোষণা করতে হবে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আগামীকাল থেকে হিমঘর গুলিতে আলু ভরতি করার কাজ শুরু হবে তার আগেই আলুর বাজার মূল্য তলানিতে এসে ঠেকেছে।  প্রতিবাদে কৃষক সভার সাথে আজ চাষিরা এই রাস্তা অবরোধে সামিল হয়েছে। এদিন অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন কৃষক সভার জেলা সদস্য আনতাজ আলি দফাদার, কৃষক নেতা সমর ঘোষ,  সুকান্ত কোঙার, অভিজিৎ কোঙার  প্রমুখ।