পিচ ভরতি ট্যাংকার উলটে গেল গাড়ির উপর , মৃত্যু একই পরিবারের দুই শিশু সহ সাত জনের

এবি ওয়েব ডেক্স, বর্ধমান

চলন্ত গাড়ির উপর উলটে গেল গরম পিচ ভরতি বোঝাই একটি ট্যাঙ্কার। ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন এস এন সিং (৬০), তার স্ত্রী প্রমীলা সিং (৫৪),তাদের ছেলে রাজেন কুমার সিং (৪২), বৌমা রেশমি সিং (৩৮), নাতনি রিয়া সিং (১৩) অপর অনন্যা সিং (৭) ও নাতি আরাভ (৪)। এস এন সিং আরপি কর্মী। তিনি বিহারের পোস্টিং রয়েছেন। তার ছেলে রাজেন সিং হাওড়ার আর পি এফ ইন্সপেক্টর। এদের বাড়ি হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার গুলমোহর এলাকায়। এদিন এই বাড়ি থেকে দেশের বাড়ি বিহারে যাচ্ছিল পরিবারটি।  বুধবার সকাল সাড়ে নটা নাগাদ কলকাতা থেকে দুর্গাপুর যাওয়ার পথে শহর বর্ধমানের বাইপাশে দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ের উপর আজিরবাগান ও রথতলার মাঝে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

 

আজ সকাল প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ  ট্যাঙ্কারটি কলকাতা থেকে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল একটা পিচ ভরতি ট্যাংকার। ঠিক তার কিছুটা পিছনে একটা সুইপ ডিজায়ার গাড়িটি । হঠাত করে ট্যাংকারটি ব্রেক কষলে  রথতলা ব্রিজের কাছে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায় ট্যাঙ্কারটি। ট্যাংকারের মাথা ডিভাইডারে উঠে যায়। ট্যাংকারের পিছনের অংশটি উলটে যায়। এদিকে প্রায় একশো কিলোমিটারের বেশি গতিতে থাকা গাড়িটি ট্যাংকারের পিছনে ধাক্কা মারে।  আর গাড়িটির উপর উলটে যায় ট্যাঙ্কারটি।  চাপা পড়েন গাড়ির যাত্রীরা। এদিকে দুর্ঘটনার জেরে বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে তারা উদ্ধার কার্যে হাত লাগাতে গিয়ে দেখেন ট্যাংকারের ঢাকনা খুলে গরম পিচ ওই চারচাকার ভিতরে ঢুকতে শুরু করেছে। সেই ফুটন্ত পিচ তাদের উপরে পড়তেই গরম পিচের তাপে গাড়িতে থাকা সকলেই ঝলসে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দমকলের দুটি ইঞ্জিন এসে ট্যাংকারের পিচের উপরে জল ডেলে ঠান্ডা করতে শুরু করে। জল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ভরে যায়।সংঘর্ষের শব্দ পেয়ে স্থানীয় মানুষজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তখন গাড়ির ভিতর থেকে আর্ত চিৎকার শোনা যায় একটি শিশুর। আংকেল বাঁচাও, আংকেল বাঁচাও। গাড়ির দরজা খুলে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করতে যাওয়ার মুহুর্তে ছুটে আসা ক্রেন ট্যাংকারটিকে তুলতে গেলে ঢাকনা খুলে তরল পিচ আড়ির উপরে পড়ে। জীবিত শিশুটিকে আর বাঁচানো গেল না। এরপরেই দমকলের দুটি ইঞ্জিন এসে জল দিয়ে গরম পিচ ঠান্ডা করতে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সাদা ধোঁয়ায় গোটা এলাকা ঢেকে যায়। এই দুর্ঘটনার ফলে কলকাতা এবং দুর্গাপুর গামী আপ এবং ডাউন দুদিকের গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। শয়ে শয়ে মানুষ এসে ঘটনা জানার কৌতুহলে ভিড় জমায়। এবার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী মানুষের ভিড় সরিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্থ গাড়ি সরাতে হিমসিম খায়। যানজট ছড়িয়ে পড়ে দুদিকে কয়েক কিলোমিটার। এক্সপ্রেসোয়ের দুদিকের রাস্তায় তিনটে করে সারি যানবাহন দাঁড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাগ্রস্থ প্রাইভেট কারটিকে এক এক করে  স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাত জনকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে সাত জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।  মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে বিহার থেকে এস এন সিং ও তার স্রী প্রমীলা সিং দুদিন আগে বিহা থেকে হাওড়ায় ছেলের কাছে গিয়েছিলেন। এদিন সকালে ছেলে বৌমা নাতি নাতনিকে নিয়ে দেশের বাড়ি ফেরার সময় নিজের হাতেই ড্রাইভ করছিলেন এস এন সিং। তারপরেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।