মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কালবৈশাখীতে নষ্ট হওয়া ধানের জমি পরিদর্শন কৃষি উপদেষ্টার

এবি ওয়েব ডেক্স, বর্ধমান  : কালবৈশাখীর তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের বিনা পয়সায় বীমার টাকা যাতে চাষিদের পাইয়ে দেওয়া যায় সেইজন্য কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। কালবৈশাখীর তান্ডবে শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানে বিঘের পর বিঘে কৃষি জমি বিপর্যয়ের খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার  ক্ষতিগ্রস্থ কৃষিজমি পরিদর্শন করলেন। তিনি প্রথমেই বর্ধমান-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের কৃষি জমি ঘুরে দেখলেন। তিনি কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এদিন টুবগ্রামের বাসিন্দা বিধবা ছবিরাণী সামন্ত প্রদীপবাবুর কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রদীপবাবুকে তিনি জানান, অনেক কষ্ট করে তিনি ভাগে ৫ বিঘে জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। মাঠে ধান পেকেও গিয়েছিল। খুব তাড়াতাড়িই তিনি ধান কাটার জন্য উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে তার সবশেষ হয়ে গেছে। এই চাষের জন্য তিনি ঋণগ্রস্থও হয়েছেন। আশা ছিল ধান বিক্রি করেই তিনি দেনা শোধ করবেন। এদিন তিনি রীতিমত কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রদীপবাবুর সামনে। তাঁকে আশ্বস্ত করে প্রদীপবাবু জানিয়েছেন, তিনি চেষ্টা করবেন।

এদিন প্রদীপবাবু জানান, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষি ভাইয়েদের উৎপাদিত ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই বিপর্যয়ের খবর পেয়েই সরকারের পক্ষ থেকে আমরা গ্রামগঞ্জে এসে ক্ষতির পরিমাণ দেখে বোঝার চেষ্টা করছি। আমরা গত ৩ বছর ধরে চেষ্টা করছি কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য যাতে কৃষকরা বীমার সুযোগটা নেন। এই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনা খরচে এই বীমা করা হয়। অনেকেই এই বীমা করেছেন। সেখানে আমাদের মূল লক্ষ্য, যাদের ক্ষতি হয়েছে তারা যাতে সঠিক ভাবে ক্ষতির টাকা পান।  তিনি জানান, ইতিপূর্বে ২০১৫ সালে প্লাবনের ক্ষতির সময় মুখ্যমন্ত্রী বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে চাষি ভাইদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এটি কেন্দ্রীয় সরকারের ফান্ড। তা সত্বেও আমরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ চেক দিয়েছিলাম। সেই টাকা আজ পর্যন্ত কেন্দ্রের কাছ থেকে আমরা পাইনি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনেক আর্থিক প্রতিকূলতা আছে। তা সত্বেও কৃষকদের কাছ থেকে এক পয়সা না নিয়েও তারা যাতে ফসলের বীমার টাকা পান তার চেষ্টা করা হয়। তাই দেখতে এসেছি, কী রকম ক্ষতি হয়েছে। এবং কতজন এই বীমার টাকা পাবেন তা সুনিশ্চিত করা হবে। তার পরে আমরা দেখব কী ভাবে কৃষকের পাশে থেকে আরও সহযোগিতা করা যায়। কোথাও কোথাও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বর্ধমান ১ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় অর্ধেকের বেশি ধান ঝড়ে গেছে। রোজই কোথাও না কোথাও ক্ষতি হচ্ছে। তাই এক্ষুনি বলা সম্ভব নয় মোট ক্ষতির পরিমান বলে তিনি জানিয়েছেন।