পণের বকেয়া টাকা না দিলে ডিভোর্সের হুমকি, লজ্জায় আত্মঘাতী অন্তস্বত্ত্বা গৃহবধূ

আমার বাংলা ওয়েব ডেক্স : পণের টাকা মেটাতে আ পারায় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হতো অন্তস্বত্ত্বা গৃহবধূকে। দিন দুয়েক আগে স্বামী ও শ্বশুর মিলে মেয়ের বাড়ি গিয়ে বাকি বকেয়া টাকা তাড়াতাড়ি না দিলে তাকে ডিভোর্স দেওয়া হবে এই হুমকি দিয়ে যায়। এরপরেই লজ্জায় অপমানে আত্মঘাতী হয় গৃহবধূ বলে বাপের বাড়ির লোকের অভিযোগ। বর্ধমান থানার তালিতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতার স্বামী মনসুর আলি , শ্বশুর ও খুড় শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে মৃত গৃহবধূর নাম জিন্নাতুন ফিরদৌস (২৩)।

মৃত বধূর মামা মনিরুল আলম ভাগ্নির  বলেছেন, বিগত এক বছর চার মাস আগে তার ভাগ্নি জিন্নাতুনের বিয়ে হয়েছিল সিমডালের বাসিন্দা মনসুর আলির সঙ্গে  । মনসুরের একটি মুদিখানার দোকান ও পারিবারিক কয়েক বিঘা চাষের জমি আছে। বিয়ে আগে ঠিক হয়েছিল যৌতুক বা পণ হিসেবে ১ লক্ষ টাকা নগদ, ২০ ভরি  সোনার গয়না ও সমস্ত ফার্নিচার দিতে হবে। কথা অনুযায়ী বিয়ের দিন সব যোগার করতে না পারায় নগদ ৮০ হাজার টাকা, ১৫ ভড়ি সোনার গয়না ও সমস্ত ফার্নিচার দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের সময় মেয়ের বাবাকে কথা দিতে হয়েছিল বাকি ২০ হাজার টাকা ও ৫ ভড়ি সোনার গয়না যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিতে হবে। বিয়ের দিন ফার্নিচার দেখে পছন্দ না হওয়ায় পরের দিনই ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিয়ে নতুন ফার্নিচার কিনে দিতে হয়েছিল।

দুদিন আগে জামাই ও অসুর বউয়ের বাপের বাড়িতে দেখা করতে এসে বলে যায় বাকি কুড়ি হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি গহনার সাথে সন্তানকে নিয়ে আসে। খালি হাতে যেন না আসা হয়। নইলে ডিভোর্স করা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। বারবার এইভাবে টাকা দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করায় এবং এই ডিভোর্সের হুমকিতে তার বাপের বাড়ির বাড়ির পরিবারকে অপমানিত করা হচ্ছে বলে মনে করেই আত্মঘাতী হয়েছে তাদের মেয়ে।