বালি চুরি বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ সেচমন্ত্রীর,১৫ দিনের মধ্যে ভাঙা হবে অবৈধ সাঁকো

এবি নিউজ ডেক্স :

দামোদরের বুক থেকে দেদার চলছে বালি চুরির ঘটনা। ফলে গতি পরিবর্তন করছে  দামোদর। শুধু তাই নয় দামোদরের গর্ভ থেকে অবৈধভাবে বালি কেটে নেওয়ায়র ফলে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে যেখানে সেখানে চোরাব্লির সৃষ্টি হচ্ছে। গত মাসে পূর্ব বর্ধমান শহরে প্রশাসনিক বৈঠক করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বালি চুরি ও পাচার বন্ধ করতে । কিন্তু সেই নির্দেশ যে খাতায় কলমেই রয়ে গেছে সেটা দামোদরের বুকে ঢুঁ মারলেই পরিস্কার হয়ে যাবে।

বালি চুরির পাশাপাশি আরো একটা সমস্যা ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে। দামোদরের বুকে অবৈধভাবে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে বালি মাফিয়ারা। প্রশাসনের তরফে বারবার সেই সাঁকো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার পরেও যে কোনো কারনেই হোক সাঁকো ভাঙা হয়নি। এদিন বিকেলে সেচ দপ্তরের একটা ভবনের উদবোধন করতে এসে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের সেচ মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

তিনি জানান , মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসনিক ভাবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যে যে কোনো ভাবেই হোক বালির অবৈধ কারবার বন্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যেই আমরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে। ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় নদীর বুক থেকে ব্রিজ তোলার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। জেলা প্রশাসনের সেই পরিকাঠামো নেই বলে তারা অনুরোধ করেছে সেই মতো আরো দশ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। আমরা তাদের বলেছি যেখানে যেখানে এই ধরনের ব্রিজ তাছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সেগুলিকে তুলে ফেলার। আগামী ২৫ তারিখ আমাদের দিন ধার্য হয়েছে। ২৫ তারিখের মধ্যে আমরা টার্গেট পূর্ণ করবো। ইতিমধ্যেই প্রতিটি থানা থেকে প্রচুর সংখ্যায় বালি চুরি নিয়ে  অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এদিন রাজীব বাবু কড়া বার্তা দিয়ে বলেন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ আছে বালি চুরি বন্ধ করার। আমি সেই দফতরের মন্ত্রী হিসেবে এটুকু বলতে পারি কোনো অবস্থাতেই এই ধরনের কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রশাসন কড়া ভাবে এর দমন করবে। সেচ বিভাগের কর্তাদের জানিয়ে দিয়েছি প্রতিটা জায়গা থেকে স্পেসিফিক অভিযোগ দায়ের করতে হবে। সেই অভিযোগের কপি যেন আমাকে পাঠানো হয় সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এদিন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমান দক্ষিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় , জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডুকে নিয়ে বাঁকা নদী পরিদর্শন করেন।