দুটো আসনে কারো উপরে ভরসা না করলে ১৬ টি আসনেই জিততাম আক্ষেপ অনুব্রতর

এবি ওয়েব ডেক্স, নলহাটি 

নলহাটি পুরসভায় নিরঙ্কুশ জয় পেল তৃণমূল। ফরওয়ার্ড ব্লক খাতা খুললেও কংগ্রেস, বিজেপি গতবারের আসনও ধরে রাখতে পারেনি। বিরোধীদের দাবি এই জয় তৃণমূলের নয়, জয় হয়েছে নলহাটি থানার ওসি মহম্মদ আলী এবং জেলা প্রশাসনের। আর এই ব্যাপক জয়ের মধ্যেও দুটি ওয়ার্ডে হারের পিছনে জেলার দুই মন্ত্রীকে দায়ী করেছেন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

বীরভূমের নলহাটি পুরসভা নির্বাচনে ১৬ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪ টি জয় পেয়েছে তৃণমূল।  ১ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী কোহিনুর বিবি। তিনি তৃণমূল প্রার্থী খালেদা বেগমকে ১৭৭ ভোটে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দলের অনিমেষ মাল, তৃণমূলের সুব্রত দত্তকে ৩২ ভোটে পরাজিত করেন। এই জয়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। একই সঙ্গে টি ওয়ার্ডে পরাজয় প্রসঙ্গে অনুব্রতবাবু বলেন, “৮ নম্বর ওয়ার্ডে মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা দায়িত্বে ছিলেন। উনাদের ভরসা করেছিলাম। উনাদের বার বার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। ওরা বলল চিন্তা নেই, নিশ্চিত জিতব। উনাদের বিশ্বাস করেছিলাম। ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিপ্লব ওঝা এবং অসিত মালকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। ওরা বলেছিল ব্যাপক ভোটে জিতব। ওরা রাজনীতি বুঝতে পারেনি। এটা আমার রাজনৈতিক ভুল হয়েছে। তা না হলে আমি ১৬ টি আসনেই জিততাম। এই দুটো ওয়ার্ডে ভরসা করে ভুল হয়েছে। রাজনীতিতে নিয়ম হচ্ছে আমি বালতিতে জল নিয়ে গেলে জল নড়বে কিন্তু বাইরে পড়বে না। জল পড়লে দায়ী হবে বালতি যিনি নিয়ে যাবেন তিনিই। জল দুলবে। এখানে জল বালতিতে থেকে পড়ে গেল। এটা ভুল। ২৭ তারিখ জেলা কমিটির সভা আছে। সেখানে এনিয়ে আলোচনা হবে”।

পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি কোন ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলাম না। আমি গোটা নলহাটিতেই ঘুরেছি। দুটি ওয়ার্ডে কেন খারাপ ফল হল তা দলে বিশ্লেষণ করতে হবে। এখনই বলা যাবে না। আমরা ভোটারদের কাছে আবেদন করেছিলাম। আমি তো প্রত্যেকটা ঘরে যেতে পারিনি। আমারা মনে করেছিলাম জিতবে। তাই জেলা সভাপতিকে বলেছিলাম। সেই কারণেই আমি বলেছিলাম জিতে যাবে। সভাপতি যা বলেছেন তা মূল্যায়ন করে সঠিক কথা বলেছেন। ভুলের কোন ব্যাপার নেই। সব ক্ষেত্রে মূল্যায়ন ঠিক হয় না”। তবে এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি মৎস্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। তার সঙ্গে ফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এনিয়ে কিছু বলব না”।