পাঁশকুড়ায় তৃণমূলের কাছে উড়ে গেল বিরোধীরা, নিশ্চিহ্ন সিপিএম

এবি ওয়েব ডেক্স, পাঁশকুড়া :  প্রত্যাশামতই পাঁশকুড়া পুরসভা দখলে রাখলো তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এখানে বামেদের পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো বিজেপি। বামেরা শুধুমাত্র তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়া নয়, এবারের পুরভোটে বামেদের এক প্রার্থী সব থেকে কম ভোট পাওয়ার নজিরও তৈরি করে ফেলেছেন। ওই বাম প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়া পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ভোট হয়েছিল ১৬টি ওয়ার্ডে। কারণ, পুরসভার ৪নম্বর ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী ছিলনা।  সেইকারণে ভোটের আগেই ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী  শেখ সমীরুদ্দিন ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। ভোট হওয়া ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডে তৃণমূল জিতেছে।

এই বিপুল জয়ের মধ্যেও শাসক দলের গলার কাঁটা হয়ে রইল ৬ নম্বর ওয়ার্ড। কারণ, এই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল পারিয়াল বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতির কাছে ৩২৬ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। প্রত্যাশামত ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী তথা রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের স্ত্রী সুমনা মহাপাত্র জয়লাভ করেছেন। তিনি ১,১০০ ভোটে নিকটতম বিজেপি প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। পাঁশকুড়া পুরসভার বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র ১০২৬ ভোটে নিকটতম বিজেপি প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।  ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী মৌমিতা সেন সব থেকে বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন। তিনি  নিকটতম বিজেপি প্রার্থীকে ১৭৮৪ ভোটে পরাজিত করেছেন। সব থেকে কম ভোট পেয়ে নজির তৈরি করেছেন পাঁশকুড়া পুরসভার ১৭নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআই প্রার্থী শেখ পিয়ার আলি। তিনি মাত্র ৭টি ভোট পেয়েছেন।  মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, পাঁশকুড়া শহরের বাসিন্দাদের কাছে আমরা আমরা কৃতজ্ঞ। মানুষ আমাদের ফের সেবা কাজে ব্রতী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন, শিশির অধিকারি ও শুভেন্দু অধিকারির যোগ্য নেতৃত্বে আমাদের এমন ফলাফল হয়েছে। আমরা একটি ওয়ার্ডে জিততে না পারায় ব্যাথিত। কেন ওই ওয়ার্ডে আমরা হারলাম তা খতিয়ে দেখা হবে।