সর্বমঙ্গলা  মায়ের ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে শহরের সূচনা হলো শারদ উৎসবের

দেবী সর্বমঙ্গলা মায়ের ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে  শহর বর্ধমানের  শারদ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো তিনশো বছরেরও পুরোনো বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা।  নিয়ম অনুযায়ী মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে  সাত সকালে শহরের  কৃষ্ণসায়র থেকে রূপোর ঘটে জল ভরে শোভাযাত্রা রওনা হয় মন্দিরের উদ্দেশ্যে।ঘোড়ায় টানা রথে  বাদ্যযন্ত্র ঢাক সহকারে বিশাল শোভাযাত্রায় অংশ নেন শহর বাসী  দেবী সর্বমঙ্গলার শোভাযাত্রা দেখতে শহরের রাজপথের দুই ধারে হাজার হাজার মানুষের ভিড় উপচে পরে । শোভাযাত্রা এসে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে শেষ হওয়ার পরে ঘট প্রতিষ্ঠা হয়। সর্বমঙ্গলা দেবীর মূর্তি কষ্ঠি পাথরের অষ্টাদশ ভূজা সিংহ বাহিনী, ‘মহিষ মর্দিনী’ তাই মহালক্ষী রূপিণী । সর্বমঙ্গলা মন্দির অবিভক্ত বাংলার প্রথম নবরত্ন মন্দির।

dsc_8191

প্রাচীন এই মন্দির বর্ধমানের মানুষের কাছে তীর্থস্থান। লক্ষ লক্ষ দেশ বিদেশের মানুষের সমাগম হয় এই মন্দিরে। এই কথা মাথায় রেখে এবং মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা ভেবে এই মন্দিরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। কথিত আছে, শহর বর্ধমানের উত্তরাংশে বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ায় বাগদিরা পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে একটি শিলামুর্তি পেয়েছিল।প্রথমে তারা সেই শিলামূর্তিকে   পাথরের  খন্ড ভেবে তার উপরে শামুক গুগলি থেঁতো করতো। এই সময় দামোদর দিয়ে চুন তৈরি কারকরা শামুকের খোলা নেওয়ার সময় শিলামূর্তিটি চলে যায় চুন ভাটায়। শামুকের খোলের সঙ্গে শিলামূর্তিটি পোড়ানো হলেও মূর্তির কোনো ক্ষতি হয়নি।তবে  সেই রাতে স্বপ্নাদেশ পাওয়া মাত্র বর্ধমান মহারাজা  সঙ্গম রায় শিলামূর্তিটিকে নিয়ে এসে সর্বমঙ্গলা নামে পুজো শুরু করে। পরবর্তীকালে  ১৭০২ সালে  টেরাকোটার নিপুন কারুকার্য সজ্জিত মন্দির নির্মান করেন মহারাজা ধিরাজ কীর্তিচাদ মহতাব। ক্রমে মূল মন্দিরের আশেপাশে গড়ে ওঠে নাট মন্দির, শ্বেত পাথরের তৈরি রামেশ্বর ও বানেশ্বর নামে দুটি শিব মন্দির। এবং কালো পাথরের তৈরি মিত্রেশ্বর, চন্দেশ্বর ও ইন্দ্রেশ্বর নামে আরো তিনটে শিব মন্দির। মন্দিরের নিত্যপুজো ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজ বংশের শেষ যুবরাজ উদয় চাঁদ মহতাব ট্রাস্ট কমিটি গঠন করেন।

ট্রাস্ট কমিটি সূত্রে বলা হয়েছে বর্ধমান রাজ রাজাদের পুরোনো রীতিনীতি মেনেই সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দুর্গাপুজো শুরু হয় মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে। এছাড়া সারাবছর এখানে নিত্যপুজো হয়। মহাষষ্ঠীতে বিল্ববৃক্ষ সমীপে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস । মহাসপ্তমীতে বিহীত পূজা, উজান্তে কুষ্মান্ড বলিদান ও আরতি। মহা অষ্টমীতে বিহীত পূজা কুষ্মান্ড বলিদান ও আরতি ও সন্ধিপূজা। মহানবমীতে বিহিত পূজা ও উজান্তে কুষ্মান্ড বলিদান ও আরতি , নব কুমারী পুজো , হোম , মাতার অন্ন প্রসাদ বিতরণ। মহা দশমীতে বিহিত পুজো উজান্তে অপারাজিতা পূজা ও ঘট বিসর্জন। প্রতিদিনই থাকছে অন্নভোগ আরতি, রামায়ন, চন্ডীপাঠ ও সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান। এবার নির্ঘন্ট অনুযায়ী মন্দিরে শারদীয়া পুজোর   দেবীর দুর্গার ঘোটকে আগমন-ফল ছত্রভঙ্গ রঙ্গমে। দেবী দুর্গার ঘোটকে গমন – ফল ছত্রভঙ্গ রঙ্গমে।

2 thoughts on “সর্বমঙ্গলা  মায়ের ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে শহরের সূচনা হলো শারদ উৎসবের

Leave a Reply