বিজয়ার মিষ্টিকে টেক্কা দিয়ে এখনো সেরা  নারকেলের নাড়ু

পুজো শেষ। পুজোয় বাজার মাত করেছে ফাস্ট ফুড। আর এই ফাস্ট ফুডের যুগে আট থেকে আশি মেতে উঠলেও  বিজয়ায় কিন্তু  নারকেল নাড়ুই ফাস্টফুডকে গোল দিয়ে রীতিমতো এখনো  ফেবারিট।পুজোর দিন গুলিতে মিষ্টির দোকানের নিত্যনতুন হরেক রকমের মিষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে গিয়ে   ক্রমশ বাঙালির বিজয়ার পাত থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে  হাতে গড়া নারকেল নাড়ু ।  কিন্তু আজকাল কার টিন এজদের সেই  ঐতিহ্য পুরোনো বিজয়ার পাতে মা মাসিমাদের তৈরি করা নারকেল নাড়ু বা মোয়া পড়লে সহজেই তা উঠে যায়।  দোকানে তৈরি মিষ্টির চেয়ে এই নাড়ুর তৃপ্তিই যে আলাদা।এমনিতেই  সীতাভোগ মিহিদানার দেশ  হিসেবে বিখ্যাত বর্ধমান। বহুদিন আগেই এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিগড়ের ল্যাংচা। বর্ধমানে  বেড়াতে এসে বিজয়ার আপ্যায়নে সীতাভোগ মিহিদানা ও ল্যাংচা পড়েনি এমন কখনো হয়েছে বলে জানা নেই। এখনো পর্যন্ত আসানসোল দুর্গাপুর বা দূরপাল্লার সরকারি বাসগুলি শক্তিগড়ে মিষ্টির বাজারে নিয়ম করে স্টপেজ দেয়।  কয়েক বছর ধরে ডায়াবেটিসের ডাপটে সুগার ফ্রি মিষ্টির বাজার বেশ তুঙ্গে । এবছরও বর্ধমানের নামদামি মিষ্টির দোকান গুলিতে দুপুরের মধ্যেই সুগার ফ্রি মিষ্টি উধাও। এছাড়া মুগডালের লাড্ডু, বরফি, ছানার গজা এর চাহিদাও কম নয়। কর্মব্যস্ততার ফলে বাড়িতে এখন আর নারকেল নাড়ু তৈরি করতে না পারায়  নারকেল নাড়ু উঠে এসেছে দোকানে এখন মিষ্টির দোকান গুলিতেও দেদারে বিক্রি হচ্ছে নারকেল নাড়ু। পাড়ার মুদিখানার দোকান, খই চিড়া মুরকির দোকানেও নারকেল নাড়ু রাখার চল বেড়েছে। এতসব মিষ্টির মাঝেও বাঙালির বিজয়ার প্লেটে নারকেল নাড়ুর চাহিদা কমেনি। রানীগঞ্জ বাজার মোড়ে একটি ফলের দোকানে গিয়ে জানা গেল গত দুদিনে তিনশোরও অধিক নারকেল বিক্রি হয়েছে। দোকানদার জানালেন নারকেলের বেশীরভাগ খদ্দেরই ছিল গ্রামগঞ্জের। নারকেল নিতে আসা রায়নার বাসিন্দা  সমীর মন্ডল বললেন বিজয়ার আপ্যায়নের জন্য বর্ধমান থেকে যতই সীতাভোগ মিহিদানা ল্যাংচা বা অন্যান্য মিষ্টি যতই কিনে নিয়ে যাইনা কেন মা দিদি বৌদিরা নারকেল নাড়ুর সরঞ্জাম শহর থেকে কিনে নিয়ে যেতে বলেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক পৌঢ় বললেন, আজকাল কার মেয়েরা বৌয়েরা এতটাই স্বাধীনচেতা বাড়ির বয়স্করা তাদের বললেও পুরোনো রীতিনীতিতে ফিরে যেতে চায়না তাই বাধ্য হয়ে সবাইকে মিষ্টি কিনে নিয়ে যেতে হয়।  তবে এখনো অনেক বাড়ি রয়েছে পুজো এলেই সেইসব বাড়ির মহিলারা নারকেলের নাড়ু , মুড়ির মোয়া তৈরি করেন। ছেলেবেলায় দেখেছি বাড়ি বাড়িতে নারকেল নাড়ু তৈরির ধুম পড়ে যেত। চারিদিকে নারকেল নাড়ুর গন্ধে ম-ম করতো।  আজ হাতে গোনা কিছু বাড়িতে এসব তৈরি হচ্ছে। কিন্তু গ্রাম গঞ্জে এখনো যতই হরেক রকমের মিষ্টি দাওনা কেন বিজয়ার প্লেটে নারকেল নাড়ু পড়লো কি না সেটা সকলেরই নজরে পড়ে।  তাই এই ফাস্টফুডের যুগে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা নারকেল নাড়ু শেষ বেলার পাতে সব মিষ্টিকেই টেক্কা দিচ্ছে।

Leave a Reply