জানেন কি ব্রহ্মান্ডে পুরোনো ও জনপ্রিয় ঝগড়া কোনটি? কেন বাড়ে লক্ষীপুজোয় ফলের দাম?

জানেন কি ব্রহ্মান্ডে সবচেয়ে পুরোনো ও জনপ্রিয় ঝগড়া কোনটি? নিন্দুকেরা বলেন  অনেকেই হয়তো  জানেন না লক্ষ্মী ও সরস্বতীর ঝগড়ার কথা !  ধনের দেবী  না বিদ্যার দেবী  কার জোর বেশী তা নিয়ে তর্ক  আজ এখনো পর্যন্ত  অমীমাংসি।  যদিও জোর করে যুক্তি দেওয়া হয় ধন থাকলেই বিদ্যা আসবে তা নয় কিন্তু  বিদ্যা থাকলেই ধন থাকবে। যদিও  সব সময় তা সত্যি নাও হতে পারে।কপাল বলেও একটা ব্যাপার আছে। তবে ধনলক্ষ্মী দেবী যদি আপনার উপরে সদয় হয় তাহলে আর আপনাকে আটকাবে কে?   তবে বর্তমান বাস্তববাদী দুনিয়া এটা জানে যে সরস্বতীর আরাধনা তো আসলে লক্ষ্মী লাভের জন্যই। তাই রাশভারী লক্ষ্মী। আর এই কারণেই নাকি ফুল ও ফলের বাজারে আগুন লেগে যায়।

আজ গৃহস্থের ঘরে লক্ষ্মী একাই একশো। শনিবার  লক্ষ্মী পুজো।  পুজোর বাজার করতে গিয়ে  ফল ফুলের দোকানে হাতে ছ্যাকা খাওয়ার জোগাড়। আশ্চর্য দুর্গাপুজোর পরে প্রতিবছর এই সময় ফল ফুলের বাজারে রীতিমতো আগুন লাগে। পরিস্থিতি এমনই যে  দমকল ডাকার মতো অবস্থা হয়। আর বাজারে এত ভিড় হয় যে দমকল ঢোকার রাস্তা থাকে না ফলে দমকলও ডাকা হয় না।  কেন যে আগুন ধরে সেটা আজও রহস্য আম বাঙালীর কাছে। এই আগুনের কারণ বন্যা না বাজার অর্থনীতি কিংবা বাম ডান রাজনীতি সেটাও পরিষ্কার নয়। তাই লক্ষ্মী পুজোকে আধুনীকিকরণ করার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তাই প্রতি ঘরে  ঘরে লক্ষীর আরাধনায় হয় বলেবযে কোনো পুজোর চেয়ে লক্ষ্মী পুজোর আগে ফল ফুলের বাজার দর আগুন হয়ে ওঠে।

শনিবার লক্ষ্মী পুজো। মাঝে শুক্রবার একদিন আগে  বর্ধমানের ফলের বাজার গুলিতে গিয়ে দেখা গেল লক্ষ্মী প্রতিমার দামের সাথে সাথে ফল ফুলের দাম আকাশ ছোঁয়া। রানীগঞ্জ বাজার, স্টেশন বাজার, বিবেকান্নন্দ কলেজ মোড়, বড়োনীলপুর, কালনা গেট , পুলিশ লাইন , নতুন গঞ্জ, পারবীরহাটা সর্বোপরি বিসি রোড সর্বত্রই ছিল একই ছবি। এদিন সকাল থেকেই লক্ষীপুজোর বাজারের জন্য  ভিড় জমাতে শুরু করেন ক্রেতারা।

আপেল প্রতি কেজি ১১০ টাকা , পেয়ারা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, নারকেল ২৫ টাকা পিস, কাঁঠালি কলা ডজন প্রতি ষাঠ টাকা, তরমুজ কেজি প্রতি ৪০ টাকা, ন্যাশপাতি ১৫০ টাকা।

laxmi-pujo-bazar-e-agun_photo-2

পদ্মফুল পিস প্রতি কুড়ি টাকা, গাদা ফুলের একটি মালা কুড়ি টাকা, বাতাসা নকুল দানার দাম খুব একটা হেরফের হয়নি। মূলত দুর্গাপুজোর পর হেকেই লক্ষ্মী  পুজোকে লক্ষ্য রেখে ফল ফুলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে।  এদিন দুপুরে লক্ষ্মী পুজোর বাজার করতে এসে ক্রেতারা জানান, ফলের দাম এত বেশী বেড়ে যাবে ভাবতে পারছি না, তাই বাজেট কাটছাট করতে হচ্ছে। লক্ষ্মী প্রতিমার দামও বেড়ে গেছে  দ্বিগুন। তাই ছোটো প্রতিমার দিকে ঝুকতে হচ্ছে।  এভাবে দাম বেড়েছে সমস্ত কিছুর। তাতে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের পুজো করাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতা সোনামনি রাউত , বিনোদ  সাউরা জানালেন , দুর্গাপুজো সবচেয়ে বড়ো পুজো হলেও ফলের দাম সেভাবে আকাশ ছোঁয়া হয় না। কিন্তু আমরাও বুঝতে পারি না  দুর্গাপুজোর পরে  লক্ষীপুজোর সময়  ফলের দাম একটু বেড়ে যায় কীভাবে । আমরা মহাজনদের কাছ থেকে যে পয়সায় কিনে আনি তা থেকে সামান্য কিছু লাভ রেখে বিক্রি করতে হয়।আর যদি আমরাও দু পয়সা লাভের মুখ না দেখি  তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে যাবো কোথায়। আমরাও তো  চাই খদ্দেররা যাতে  ন্যায্য মূল্যে ফল কিনতে পারে ।তাহলে সেই খদ্দের সারাবছর  আমার কাছ হেকেই ফল কিনবে । তাই দাম বাড়ার ব্যাপারে আমাদের কিছু করার থাকে না।  এভাবে বাজারে বাজারে ক্রেতা বিক্রেতাদের  দর কষাকষিতে সরগরম হয়ে উঠলো লক্ষীপুজোর বাজার। আর সেই কারণেই অন্যান্য ভাইবোনেদের পিছনে ফেলে কয়েক কদম এগিয়ে যায় ধনের দেবী।

Leave a Reply