চোখের বাইরে…

বর্ধমানের বাড়িতে সম্প্রতি প্রয়াত হলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষক সাহিত্যিক ড.চিন্ময়ী ভট্টাচার্য । আপন খ্যাতিতে উজ্জ্বল এই বিদূষী মহিলা বাস্তব জীবনে ছিলেন প্রয়াত সাহিত্যিক চিত্ত ভট্টাচার্যের স্ত্রী ও প্রয়াত চিকিৎসক ডা.মৈনাক মুখোপাধ্যায়ের মা । তাঁর স্মৃতিচারণ করলেন কন্যা গোধূলি চৌধুরী

 

১৯৪০ সালের ১২ই এপ্রিল জন্ম হয়েছিল ড: চিন্ময়ী ভট্টাচার্যের। স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত। পিতা: ফকিরচন্দ্র ঘোষ, মাতা: নীহার নলিনী ঘোষ। বর্ধমান উদয়চা‌ঁদ কলেজ থেকে স্নাতক স্তরে প্রথম স্থানাধিকারী। স্নাতকোত্তর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থানাধিকারী। পি.এইচ.ডি- বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজিত কুমার দত্তের কাছে। কর্মস্থল দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয় চিত্তরঞ্জন, ‘শ্রী গোপাল ব্যানার্জী’ কলেজ মগরায়। অধ্যাপিকা হয়ে অবসরগ্ৰহণ ২০০০ সালে। এছাড়াও সাহিত্যচর্চার প্রতি অনর্গল আগ্ৰহের সাথে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় গল্প প্রবন্ধ প্রকাশ করা ওনার স্বভাব সিদ্ধ ছিল।
এহেন চিন্ময়ী ভট্টাচার্য আধুনিক যুগের কাছে এক বিস্ময়। ৭ বছর বয়সে তার বাবা মারা যায়। তারপর থেকে সারাজীবন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম জীবনের বিভিন্ন উত্থান পতনের সঙ্গে। বিয়ের পরে দুই ছেলেমেয়েকে কিছু বড় করে পুনরায় কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করা এটা অনেকের কাছে উদাহরণ যোগ্য। এছাড়া মহিলাদের দ্বারা মহিলাদের জন্য পরিচালিত সংস্থা ‘চিরায়তন’ প্রতিষ্ঠানের সদস্য। প্রথিতযশা ডাক্তার শ্রী মৈনাক মুখার্জীর মা এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও শিক্ষক শ্রী চিত্ত ভট্টাচার্যের পাদপছায়ায় পড়াশোনায় কৃতকার্য হওয়া সফলতম ভাবে এই উদাহরণ এক আশ্চর্য প্রদীপের মতো। এছাড়াও যুক্ত হয় গবেষণা গ্ৰন্থ: ‘বিংশ শতাব্দীর গ্ৰাম বাংলা’ (মুদ্রিত)। পরবর্তী কালে প্রকাশিত ‘মোহর’ নামক গল্পগ্ৰন্থও অনবদ্য বলা যায়।
পরিসমাপ্তিতে বলি অসম্ভব মনের জোর এবং আধুনিক মনস্ক চিন্ময়ী ভট্টাচার্যের মেয়ে গোধূলি চৌধুরী ও তাঁর প্রিয় স্নেহভাজন জামাতা অঞ্জন, দৌহিত্রী তোয়া, তিথি, কুর্চি, নাত জামাই অমিতাভ, দৌহিত্রী তোয়ার মেয়ে ঋতুজা এবং বৌমা বর্ণালীর রইল তাঁর প্রতি অসীম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও প্রণাম। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।