অমাবস্যায় রাজাকে চাঁদ দেখিয়েছিলেন সাধক কমলাকান্ত

আমার বাংলা ওয়েব ডেক্স :   সাধক কবি কমলাকান্তকে বর্ধমানে এনেছিলেন  তৎকালীন মহারাজ তেজচন্দ্রের দেওয়ান  পূর্বস্থলীর রঘুনাথ রায় দেওয়ান। বর্ধমান মহারাজার অনুরোধেই তিনি বর্ধমানে আসেন। সাধক কমলাকান্ত কোটালহাটে পঞ্চমুন্ডির আসনে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন।

কথিত আছে, রাজা তেজচন্দ্রকে ঘোর অমাবস্যায় পূর্ণচন্দ্র দেখিয়ে অবাক করে দিয়েছিলেন সাধক কমলাকান্ত । তাঁর আরাধ্যা দেবীর যে প্রাণ আছে তা প্রমাণ  করতে দেবীমূর্তির পায়ে কাঁটা ফুটিয়ে রক্তপাত করেছিলেন। এমনও শোনা যায়, সাধক মায়ের পুজোর জন্য কারণসুধা নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে রাজার মুখোমুখি হয়ে যান। তখন ওই পাত্রে কী আছে দেখতে চাইলে দুধ দেখিয়েছিলেন রাজাকে।  সাধক কমলাকান্তের গানে ভক্তিরস, সঙ্গীতরস ও কবিত্বের পান্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে বর্ধমান মহারাজ তেজচন্দ্র তাঁকে সভাপন্ডিত করেছিলেন। কথিত আছে, তিনি চান্না গ্রামের বিশালাক্ষী মন্দিরে পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। তাঁর সিদ্ধিলাভের কথা, অলৌকিক ঘটনা, ভক্তিগীতি ও কবিত্বের পান্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে ১৮০৫ সালে তাঁকে চান্না গ্রাম থেকে বর্ধমান রাজসভায় নিয়ে এসে সভাপন্ডিত বা সভাকবি করেছিলেন মহারাজা তেজচন্দ্র। তেজচন্দ্র তাঁর পুত্র প্রতাপচন্দ্রের শিক্ষার ভারও তুলে দিয়েছেলেন কমলাকান্তের উপরে। তখন সাধককে বোরহাটে কালীমন্দির তৈরি করে দেন রাজা। সেই মন্দিরেই পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে সাধনা করেছিলেন তিনি। সেখানেই টোল খুলে সংস্কৃত বিদ্যাদান করেছিলেন। অবসর সময়ে শ্যামাসঙ্গীত রচনা করতেন। সাধক রামপ্রসাদের মতোই কমলাকান্তের জীবনও নানা আলৌকিক কীর্তিকলাপে ভরা। একবার দস্যুর দল তাঁর কাছ থেকে অর্থহরণ করে হত্যা করতে এসে তাঁর গান শুনে চরণে শরণ নিয়ে ডাকাতিই ছেড়ে দেয়। স্বয়ং দেবী নানান বেশে এসে তাঁর গান শুনতেন।

যাবেন কিভাবে : বর্ধমান শহরের রাজবাড়ি উত্তরফটক পেরিয়ে পশ্চিম দিকে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই মিলবে বোরহাট কালীতলা। ওই কালী মন্দিরের বাঁ দিকের রাস্তা ধরে আধ কিলোমিটার গেলে ডানদিকে পড়বে বোরহাট রামকৃষ্ণ স্কুল। ওই স্কুলের ঠিক উলটো ফুটে যে গলি চলে গেছে সেই গলিতে দু পা হাটলেই মিলবে মা কমলাকান্ত কালীবাড়ি।