অনুগল্প

খাবার
সুস্মিতা মণিমালা

হ্যাবলা হাঁফাতে হাঁফাতে ছুটে মায়ের সামনে বিস্ফারিত চোখে মাকে বলল, ‘মা খাবার লিবিনা-খাঁদু, হুলো উরা তো সব লিয়ে লিলো, চল তারাতারি চল মা’। ব্রিজের নীচে ছেঁড়া জামাকাপড়ের অন্ধকার খুপরি থেকে হ্যাবলার মায়ের চোখও ক্ষিপ্র – ‘কোথায় খাবার রে?’ হ্যাবলা টিনের তোবড়ানো জামবাটিটা মাথায় টুপির মতো চাপিয়ে আর একটা টিনের হাঁড়ি বাজাতে বাজাতে মাকে রাস্তার ওপারে নিয়ে গেলো।এবার বুঝল হ্যাবলার মা – ‘উই যে কি ব্যারাম হচ্ছে না লোকজনের – সব বাবুরা নাকে কাপড় এঁটে রুটি সুজি ইসব দিছে’। নিমেষে ব্রিজের নীচের সব খুপরির সবকটা তোবড়ানো কালো জামবাটি নিয়ে হাজির হয়ে গেলো সক্কলে। বাবুরা বলল –‘ভিড় করো না-একে একে এসো – সবাই পাবে’। বাবুরা সাবুন দিয়ে হাত ধুয়ে খেতে বলচে কিন্তু সাবুন তো নেই। কিন্তু হ্যাবলা দেখল তারা অনেক খাবার পেয়েছে। কিছু দূরে কুকুরদেরও খাবার দিছে বাবুরা তাই ওরা আর এদিকে আসছে না। হ্যাবলা হলুদ দাঁত বের করে হাসল। এই কদিনে এই ঘটনার সঙ্গে তারা পরিচিত হয়ে গেলো। হ্যাবলার মায়ের মতো ওখানকার সবাই বাবুদের কাছে পাওয়া রুটি সুজি সূর্যের খর রোদে শুকিয়ে নিচ্ছে। শুধু আজ খেলেই তো হবেনা। হ্যাবলাদের যে রোজই খিদে পায়। রাস্তাঘাট ফাঁকা। সব লোকজন নাকি বাড়িতে। হ্যাবলা ভাবে লোকজনগুলো গেলো কোথায়? রাস্তার ওপারে তাকিয়ে থাকে। আবার খাবার এলে মাকে গিয়ে খবর দিতে হবে তো। ‘আহা বেশ চলছে কী যেন সবাই বোলচে লোকডাঊণ লা কী যেন’? মনে মনে ভাবে, এরকম চলতে থাকলে তাদের আর মায়ের হাতে মার খেতে হয় না রোজ।

 

 

বাঁশদ্রোনী , কোলকাতা-৯৬